কবিতা | রেবেলিয়ন

আমার বরাবরই মনে হয়, মানুষ তার নিজের অবস্থান ও অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।
অন্যদের কথা ঠিক জানি না, আমি তো এটা প্রায়ই করি। আমি হাঁটতে হাঁটতে নিজের হাঁটাকে অস্বীকার করি।
আমি মানতে পারি না যে আমি এদিকেই হাঁটছি, এই এত সন্ধ্যায়।
অথচ আমি হাঁটছি, কিন্তু আমি এটা পুরোপুরি মানছি না।
আমি যেখানে থাকি—যে বাসা, বাড়ি, বাজার, হাট, নিচের মুদি দোকান—
এসব আমারই লোকালয়। আমিই এই বৃহৎ পরিবেশের অংশ।
অথচ আমি এসব যেন মানি না। যেন এই ছাইপাশ আমার না, আমি এখানে যেন লুকিয়ে বাঁচিয়ে আছি—
যেন কিছুক্ষণ পরেই আমি এইখান থেকে সেখানে চলে যাব, যেখানে আমি নিজেকে উপযুক্ত মনে করি।
অথচ আমি জেনেও যেন জানি না যে আমি আসলে কোথাও মানানসই না।
এই শহর, লোক, আড্ডা, বন্ধু—
সব আমার কাছে বড্ড বেমানান লাগে। মনে হয়, আমি এসবের মধ্যে নেই।
আমি এসবের জন্য না, অথচ আমিই আছি। শুধু নিজেকে এটা বিশ্বাস করাতে পারি না।
বন্ধুদের লেইম আর ঠুনকো আড্ডায় আমার থাকতে ইচ্ছা করে না।
তবুও থেকে যাই, এই ভেবে যে এসব আমার না। অথচ আমি এসবই।
ব্যাটারি রিকশা “সো” করে চলে যায়, কাদা ছিটে আসে।
আমি রিকশা থেকে নামিয়ে রিকশাওয়ালাকে আদব-কায়দা শেখাতে চাই।
কিন্তু যেতে দেই, ভাবি—এসব তো আমার নয়-ই!
আমি যেন কোনো এক ফেরেশতা, কোনো এক দেবশিশু, অথবা যীশু!
এবং কেন আমার নয়? কেন আমি আমার অস্তিত্বকে এতটা অস্বীকার করি?
কিসের এত স্ব-দ্রোহ আর বিরুদ্ধাচরণ আমার!
জাহিদ অনিক
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৫